Headlines

শ্রীমৎ শাসনপ্রিয় মহাথের : এক অনন্য ভিক্ষু ব্যক্তিত্ব

Posted by Anonymous | Monday, 8 December 2014 | Posted in ,



লিখেছেন:-ভিক্ষু ধর্মালংকার,কানাডা


 বিদর্শন আচার্য শ্রীমৎ শাসনপ্রিয় মহাথের বর্তমান সময়ে বিদর্শন প্রেমী মানুষের কাছে একটি সুপরিচিত নাম। ১৯৯৭সালে পোমরা জ্ঞানাংকুর ভাবনা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা পূর্বক মুক্তিকামী মানুষের মাঝে বিদর্শন শিক্ষা দিয়ে চলেছেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে গমন পূর্বক মানুষকে বুদ্ধের মূল শিক্ষা বিদর্শনের প্রতি মনোনিবেশ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছেন।
জন্ম ও কর্মঃ

১৯৬২ সালের ৩ মে রাউজান থানার অংকুরঘোনা গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। ৭ ছেলে ২ মেয়ের গর্বিত পিতা শশাঙ্ক মোহন ও মাতা খুকিবালা বড়ুয়ার ৮ম তম সন্তান। ১৯৭৮ সালে প্রব্রজ্যা এবং ১৯৮২ সালে অষ্টম সঙ্ঘরাজ সাহিত্যরত্ন ভদন্ত শীলালঙ্কার মহাথেরর উপাধ্যায়ত্বে উপসম্পদা লাভ করেন। ১৯৮৪ সালে পোমরা জ্ঞানাংকুর মৈত্রী বিহারে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান পূর্বক অধ্যাবধি উক্ত পদে সমাসীন থেকে ধর্ম সমাজ ও মানুষের কল্যাণে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন। সকাল-সন্ধ্যা সমবেত বন্দনা ও ভাবনা, সকল ছেলে মেয়েদের ধর্মীয় শিক্ষা দান, ছেলে মেয়েদের খেলা ধুলায় উৎসাহিত করা, বাংলাদেশ সংস্কৃত ও পালি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পোমরা জ্ঞানাংকুর পালি কলেজ প্রতিষ্ঠা (তৎকালীন জেলা শিক্ষা অফিসার তরনীসেন বড়ুয়ার ঐকান্তিক সহযোগিতায়) এবং বোর্ড আয়োজিত আদ্য, মধ্য ও উপাধি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করার জন্য ছেলে মেয়েদের উদ্বুদ্ধ করা, গরীব দুঃখী মানুষকে সহযোগিতা করা ও সামাজিক বিভিন্ন কাজে নিঃস্বার্থ ভাবে যোগদান এক অনন্য উদাহরণ। মানব কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ শাসনপ্রিয় মহাথের ২০০৮ সালে পোমরা জ্ঞানাংকুর মৈত্রী বিহারকে নান্দনিক রূপে রূপায়িত করে অমর কীর্তি স্থাপন করেন। ২০০৯ সালে শশাঙ্ক মোহন-খুকিবালা দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা, ২০১০ সালে শশাঙ্ক মোহন-খুকিবালা মেধা বৃত্তি প্রকল্প এবং বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ বিদর্শন ধ্যান কেন্দ্র অত্তদীপ ইন্টারন্যাশনাল মেডিটেশান সেন্টার প্রতিষ্ঠা তাঁকে অমরত্বের আসনে সমাসীন করেছে।


ত্যাগই সুখঃ

বুদ্ধির সুচনা থেকে তাঁর সান্নিধ্যে থাকার সুবাদে গভীর ভাবে তাকে জানার সুযোগ হয়েছে। দানীয় সামগ্রী কোনদিন বিক্রি করতে বা বাড়িতে পাঠাতে দেখা যায়নি। বিহার উন্নয়ন, দান প্রদান ও বিহারের প্রয়োজনে তা ব্যাবহার হতো এবং হয় সেই থেকে আজ পর্যন্ত। এছাড়া ও দেশের বিভিন্ন জায়গায় বন্যা, আগুনে ও ভুমিকম্পে মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হলে তাদেরকে অর্থ সহ সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করা তাঁর নিত্য কর্মের একটি। ২০০৯ সাল থেকে প্রতি সপ্তাহে ২ জন ডাক্তারের মাধ্যমে সকল কমিউনিটির গরিব দুঃখী মানুষকে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ করে চলেছেন এক্ষেত্রে যা আমাদেরকে ত্যাগের শিক্ষা দেয় তা বিরল। কোন শ্রদ্ধাবান দায়ক সঙ্ঘদানের জন্য ফাং করলে শ্রদ্ধেয় ভান্তের আবেদন থাকে যেন, যে পরিমাণ অর্থের দানীয় সামগ্রী দেওয়া হবে তার পরিবর্তে গরীব দুঃখী মানুষের জন্য ঔষধ দিলে ভাল হবে। কি রকম ত্যাগ চেতনা থাকলে নিজের লাভ সৎকার বাদ দিয়ে অপরের জন্য চিন্তা করতে পারে সচেতন পাঠক চিন্তা করবেন আশাকরি।


মহাপুরুষদের যথাযত মূল্যায়ন ও আমরাঃ

আমাদের সমাজে এরকম আরো অনেক মহাপুরুষ জন্মেছিলেন অথচ কেন জানি তাঁদের প্রতি আমাদের উদাসীন ভাব। যারা না হলে আমরা আজ এই পর্যন্ত আসা তো দুরের কথা চিন্তা করাও দুঃসাধ্য ছিল। বার্মায় দেখলাম আমাদের সমাজের আলোক বর্তিকা, যার হাতে ত্রিপিটক বাংলায় রচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, বৌদ্ধ মিশন প্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পরম পূজ্য অগ্রমহাপণ্ডিত প্রজ্ঞালোক মহাথেরর শুধু মাত্র একটি মূর্তি বানিয়ে রেখে সব অবদানের পুরষ্কার দিয়ে দায়িত্ব শেষ হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। এভাবে আরও যারা ছিলেন আমরা তাঁদের জন্য একটি মূর্তি বা স্মৃতি মন্দির করেই দায়িত্ব শেষ করেছি। মূলত তাঁদের জীবন ও কর্ম কালে কালে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্ম কে উদ্বুদ্ধ করা দরকার। পাশাপাশি বর্তমান যারা আছেন তাদেরকে যথাযত মূল্যায়ন করলে আমাদের সমাজ মহাপুরুষ শূন্য হবে না আশাকরি।

সবাই প্রজ্ঞাবান হউক

রক্তদান, চীবর বুননসহ দুইদিন ব্যাপী অনুষ্টান মালায় করইয়ানগরে কঠিন চীবর দান উদযাপিত

Posted by Unknown | Monday, 3 November 2014 | Posted in

গত ২৯ ও ৩০ অক্টোবর রক্তদান, চীবর বুননসহ দুইদিন ব্যাপী অনুষ্টান মালায় সাতকানিয়া থানাধীন করইয়ানগর সদ্ধর্মেোদয় বিহারে দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব উদযাপিত হয়েছে। ২৯ অক্টোবর পঞ্চশীল প্রদানের মাধ্যমে চীবর বুনন কর্মসূচীর শুভ উদ্বোধন করেন শ্মশানভূমি ধ্যানচর্চা কেন্দ্র, করইয়ানগর এর প্রতিষ্ঠাতা সংঘপ্রধান ভদন্ত প্রজ্ঞেন্দ্রিয় থের। চীবর বুননে অংশ নেয় রাঙামাটি থেকে আগত গোলাপী বেইন শিল্পী গোষ্ঠী। সারা রাত ব্যাপী তারা চীবর বুনন করেন। সকালে ভিক্ষুসংঘের পিন্ডাচারণের মাধ্যমে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচীর সূচনা হয়। “সন্ধানী” চট্টগ্রাম এর সহায়তায় সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় দান উপপারমী পূর্ণতায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী। করইয়ানগর গ্রামে প্রথমবারের মত আয়োজিত রক্তদান কর্মসূচীতে অনেকেই উৎসাহের সাথে অংশ নেয়। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় গ্রামে জন্মজাত মনীষীদের স্মরণে সংঘদান অনুষ্ঠান এতে সভাপতিত্ব করেন ভদন্ত বিজয়ানন্দ মহাথের। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ভদন্ত আনন্দপ্রিয় ভিক্ষু।
দ্বিতীয় পর্ব সদ্ধর্ম সভায় সভাপতিত্ব করেন ভদন্ত এস, ধর্মরত্ন থের। প্রধান অতিথি ছিলেন ভদন্ত প্রজ্ঞাসার মহাথের। প্রধান সদ্ধর্মদেশক ছিলেন ভদন্ত প্রজ্ঞেন্দ্রিয় থের। আলোচনায় অংশ নেন সাতকানিয়া লোহাগাড়া ভিক্ষু সমিতির মহাসচিব ভদন্ত ধর্মতিলক ভিক্ষু ও বুদ্ধপাল থের। সন্ধ্যায় আকাশ প্রদীপ উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচীর সমাপ্তি ঘটে।

আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ নেতা দালাইলামা’র আশির্বাদ প্রাপ্ত বাংলাদেশী ভিক্ষু ভদন্ত মুদিতারত্ন

Posted by Anonymous | Saturday, 1 November 2014 | Posted in

তথ্য সহায়তায় লিখেছেন:- ইলা মুৎসুদ্দী

রবিবার, ০২ নভেম্বর ২০১৪
রবিবার, ০২ নভেম্বর ২০১৪
দালাইলামা এমন একজন ব্যক্তিত্বের নাম, যে নাম বিশ্বের সর্বমহলে উচ্চারিত হচ্ছে। তার ক্যারিশমাটিক ব্যক্তিত্ব,শান্ত,সৌম্য মূর্তি, সদা স্মীত হাস্য বদন, মুখে শান্তি ও অহিংসার বারতা প্রভৃতি কারণে তিনি এখন শুধু তিব্বতিদের ধর্মগুরু নন, সারা বিশ্বের মানুষের কাছে সমীহ জাগানো এক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।
সারাবিশ্বের মানুষ যখনই অশান্তির দাবানলে ব্যাপৃত তখনই বিশ্বব্যাপী সকল মানুষদের শান্ত, দান্ত, সুসমাহিত করার জন্য মৈত্রীর বাণী ছড়িয়ে যাচ্ছেন- আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বৌদ্ধ নেতা শ্রদ্ধেয় দালাইলামা। পৃথিবীর প্রতিটি দেশে গিয়ে তিনি বুদ্ধের মৈত্রীর বাণী, সাম্যের বাণী প্রাঞ্জল ভাষায় প্রচার করে চলেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ অক্টোবর ২০১৪,মঙ্গলবার, আমেরিকাস্থ নিউ জার্সি ‘প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে তাঁর একক সদ্ধর্ম দেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে যোগদান করেন বাংলাদেশের জন্মজাত বৌদ্ধ ভিক্ষু ভদন্ত মুদিতারত্ন ।
লোকে লোকারণ্য কিন্তু পিনপতন নিরবতা সভামন্ডপ। শ্রদ্ধেয় দালাইলামা মেডিটেশনের উপর দেশনা করে সবাইকে আবেগাপ্লুত করেন। দেশনা শেষ করার পর দাঁড়িয়ে চারিদিকে শ্রোতাদের দিকে তাকাতেই হঠাৎ করে দালাইলামার দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় ভদন্ত মুদিতারত্ন ভিক্ষুর প্রতি। শ্রদ্ধেয় দালাইলামা হাজার হাজার লোক ভর্তি দর্শক গ্যালারী থেকে শুধুমাত্র ভদন্ত মুদিতারত্ন ভিক্ষুকে কাছে ডেকে নিয়ে কুশলাদি বিনিময় করেন এবং হাত স্পর্শ করে নিরোগ, দীর্ঘায়ু ও জ্ঞানী ভান্তে হওয়ার জন্য আশির্বাদ করেন।
আশির্বাদ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন টিভি ক্যামেরা ও সাংবাদিক তাঁর (মুদিতারত্ন ভিক্ষু) মনের অনুভুতি জানতে চাইলে, ভান্তে তা প্রকাশ করেন। আমি তাঁর মনের অনুভূতি জানতে চাইলে শ্রদ্ধেয় ভান্তে এইভাবে বলেন- “প্রথম আমি যখন দালাইলামার সাথে গুরু ভান্তের (প্রজ্ঞাবংশ মহাথের) ছবি দেখি তখন মনে মনে কামনা করি আমার কি সেই সৌভাগ্য হবে? যখনই শ্রদ্ধেয় দালাইলামা এত লোকের মাঝে শুধু আমাকে কাছে ডেকে আশির্বাদ করেন তখনই আনন্দে আপ্লুত হয়ে যাই এবং নিজেকে অনেক সৌভাগ্যবান মনে করি। মনে করি এটা আমার অতীত জন্মের পুন্যের হেতু এই পাওনা।
 উল্লেখ্য যে, শ্রদ্ধেয় মুদিতারত্ন ভিক্ষু চট্টগ্রামের মিরসরাই থানার মায়ানী গ্রামে উপাসক বরুন চন্দ্র বড়ুয়া ও উপাসিকা নিলু বড়ুয়ার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। ইতিপূর্বে তিনি “সচিত্র ধর্মপদ” বই সহ ৪টি সূত্রের ক্যাসেট এবং ধর্মীয় বিভিন্ন বই নিজ হস্তে কম্পিউটার কম্পোজ করে প্রকাশ করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বৌদ্ধ পন্ডিত, ধুতাঙ্গ সাধক, ত্রিপিটক অনুবাদক, বহু গ্রন্থ প্রণেতা ভদন্ত প্রজ্ঞাবংশ মহাথেরোর অন্যতম শিষ্য। বর্তমানে তিনি “বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট বিহার অব নিউইয়র্ক এর অধ্যক্ষের পদে সমাসীন।
  দি বুড্ডিস্ট টাইমস” পরিবার তাঁর নিরোগ দীর্ঘজীবন ও উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করছি।


সাধু সাধু সাধু’ ধ্বনিতে মুখরিত রাজবন বিহার: কঠিন চীবর দানোৎসবে লাখো পুণ্যার্থী

Posted by Anonymous | Friday, 31 October 2014 | Posted in

সাধু সাধু সাধু’ ধ্বনিতে মুখরিত রাজবন বিহার: কঠিন চীবর দানোৎসবে লাখো পুণ্যার্থী

রাঙামাটিতে কঠিন চীবর দানোৎসবে গতকাল চীবর দান করেন চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়

রাঙামাটি রাজবন বিহারে লাখো পুণ্যার্থীর অংশগ্রহণে শেষ হলো দুই দিনব্যাপী ৪১তম কঠিন চীবর দান উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে গত দুই দিন রাঙামাটি শহর ছিল যেন উৎসবের নগরী। এ ধর্মীয় উৎসব পরিণত হয়েছিল পাহাড়ি-বাঙালির মিলনমেলায়। রাঙামাটি রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবিরের দেশনার মাধ্যমে চীবর দান উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে রাজবন বিহারের মাঠের বিশাল এলাকাজুড়ে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য বস্ত্র ও কল্পতরু শোভাযাত্রা মুহুর্মুহু আনন্দধ্বনি এবং উৎসবের জোয়ার প্রকম্পিত করে। ভোর থেকেই বিহার চত্বরে জড়ো হতে থাকেন পুণ্যার্থীরা। এসময় হাজারো মানুষের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজবন বিহারের বিশাল এলাকা।
প্রয়াত বনভান্তের শিষ্যবর্গ ও অনুত্তর ভিক্ষুসংঘ অনুষ্ঠান মঞ্চে উপসি’ত হলে ভক্তদের ‘সাধু, সাধু, সাধু’ ধ্বনিতে সমগ্র এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। বেলা আড়াইটায় দানোৎসবের প্রথম পর্বে অনুষ্ঠিত হয় ভক্তদের পঞ্চশীল গ্রহণ। পরে পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হয় সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, বুদ্ধমূর্তি দান, পুণ্যার্থীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৈরি করা কঠিন চীবর উৎসর্গ।
বিকেলে সমবেত পুণ্যার্থীদের উদ্দেশে ধর্মীয় দেশনা দেন বৌদ্ধধর্মীয় অন্যতম গুরু মহামতি বনভান্তের প্রধান শিষ্য শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস’বির। এসময় উপসি’ত ছিলেন চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, নতুন চাকমা রানি ইয়ান ইয়ান, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামাল, পুলিশ সুপার আমেনা বেগম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আযাদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ চাকমা, রাজবন বিহার উপাসক-উপাসিকা পরিষদের কর্মকর্তাসহ পাহাড়ের নেতৃস’ানীয় ব্যক্তিবর্গ।
গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় সুতা কাটা থেকে বুনন শুরু করে চীবর তৈরি শেষে গতকাল শুক্রবার বিকাল ২টা ৫০ মিনিটে চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস’বিরকে চীবর উৎসর্গ করার মাধ্যমে দান কার্য সম্পাদন করেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে চীবর দান অনুষ্ঠান শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদানকালে রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বলেন, ‘এ কঠিন চীবর দানের মধ্য দিয়ে শান্তির প্রতি শ্রদ্ধা ও গভীরতা বৃদ্ধি পায় এবং সকলেই সংকল্পবদ্ধ হয়ে সকল প্রকারের হানাহানি ও হিংসার অবসানের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চল ও সারাদেশে সত্যিকার অর্থে জনমুখী ও পরিবেশমুখী উন্নতি আনতে পারি সে লক্ষ্যে কাজ করতে পারি। এ কঠিন চীবর দানের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের জুম চাষের প্রথার মাধ্যমে জুমের যে তুলা রয়েছে তা থেকে সুতা তৈরি করে চীবর তৈরি হয়ে থাকে। এতে একদিকে আমাদের বৌদ্ধ ধর্মীয় কৃষ্টি সংরক্ষিত হচ্ছে অন্যদিকে পার্বত্য এলাকার জুমিয়াদের কৃষ্টিও সংরক্ষিত হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘নারী-পুরুষ সকলে মিলে আমাদেরকে একসাথে কাজ করতে হবে। দেশের সকল ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য।’ এদিকে, রাজা দেবাশীষ রায় ভারতের মহারাষ্ট্র থেকে আগত ১৪০ জন উপাসক-উপাসিকাকে রাজবন বিহারের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে উপসি’ত হওয়ায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা বলেন, ‘বনভান্তে নেই তা আমাদের মনে হয় না। শ্রদ্ধেয় বনভান্তের বদৌলতে তার এ অনবদ্য কর্মযজ্ঞ আমাদের সকলের মাঝে প্রেরণা যুগিয়েছে। আমরা সকলে মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাই। সমাজের মধ্যে যে অহিংসা হানাহানি কুসংস্কার চলছে তা সকলকে বন্ধ করতে হবে। চিত্তকে পরিশুদ্ধ করার জন্য এবং এবং ধর্মীয় সুধা পান করার জন্য সকলকে একে অপরের প্রতি সহনশীল মনোভাব গড়ে তুলতে হবে।’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাজবন বিহার উপাসক-উপাসিকা পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি গৌতম দেওয়ান, সহ-সাধারণ সম্পাদক অং থোয়াই মারমা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছাবাণী প্রদান করেন পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার শুভেচ্ছা বাণী প্রদান করেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট দীপেন দেওয়ান।
প্রসঙ্গত, আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে গৌতম বুদ্ধের উপাসিকা বিশাখা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা কেটে বৌদ্ধ পুরোহিতদের ব্যবহার্য চীবর (বস্ত্র) তৈরি করে দানকার্য সম্পাদন করার পদ্ধতিতে এ কঠিন চীবর দান প্রবর্তন করেন। আষাঢ়ী পূর্ণিমায় ভিক্ষুসংঘের যে তিন মাস বর্ষাব্রত শুরু হয় তা শেষ হয় আশ্বিনী বা প্রবারণা পূর্ণিমায়। তারপর শুরু হয় মাসব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব। প্রতি বছরের মতো এবছরও কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগী অংশ নেন। রাজবন বিহারে ১৯৭৪ সালে এক স্বর্গীয় অনুভূতিতে বনভান্তে বিশাখা প্রবর্তিত নিয়মে সর্বপ্রথম কঠিন চীবর দান প্রচলন করেন। এর আগে রাঙামাটি জেলার তিনটিলা বৌদ্ধ বিহারে ১৯৭৩ সালে এ কঠিন চীবর দান করা হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা কেটে তারপর চীবর তৈরি করে বিশাখা প্রবর্তিত নিয়মে আড়াই হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী কঠিন চীবর দান একমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজবন বিহারেই সম্পাদন করা হয়ে থাকে।

দুই দিনের কঠিন চীবর দান উপলক্ষ্যে তিন পার্বত্য জেলাসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত অগণিত পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীর মিলনমেলায় পরিণত হয় রাজবন বিহারের বিশাল এলাকা। প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের এ বিশাল মহাসমাবেশ সৌহার্দ্য, সমপ্রীতি ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সর্বজনীন প্রদীপ পূজার মধ্য দিয়ে শেষ হয় উৎসবের বর্ণাঢ্য আয়োজনের।

সৌজন্যেঃ সুপ্রভাত বাংলাদেশ

বৌদ্ধ বিহারের যে বাস্তবতা হয় না জানা

Posted by Anonymous | Thursday, 30 October 2014 | Posted in


বৌদ্ধ বিহারের যে বাস্তবতা হয় না জানা

 লিখেছেন:-উপতিষ্য ভিক্ষু,রাঙ্গামাটি ।

                                                                                                                                  

                      ছবিতে উপাসক যা বলছেন তা নিষক একজনের নয় বরং একটি গোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গীকে নির্দেশ করছে।

স্ক্রীনশট নেয়া ছবিটিকে খুব সাধারণ মনে হতে পারে অনেকেরই। হ্যাঁ সাধারণ হতে পারে বটে তবে এই সাধারণ কথাটির মাঝে একটি ধ্রুব বাস্তবতা লুকিয়ে আছে সেটি বলার জন্যই মূলত ছবিটি নেয়া। ছবিতে যা আছে তা হচ্ছে আমার একটি পোস্টে মন্তব্য করতে গিয়ে একজন উপাসক আমাকে বলে ফেললেন "ভাগ্য তোমার ভালো আমাদের বিহারে নও, তাহলে এতদিন চীবরটাও হারাতে..."। আমি তাতে তার উপর রাগ করিনি। বরং তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ একটি বিষয় আমাকে বলার সুযোগ করে দেয়ার জন্য। সেটি হচ্ছে আমরা যারা ভিক্ষু হয়ে বিহারে থাকি (চাকমা আর বড়ুয়া দুটো সমাজেই দেখেছি) আমাদের একটি বিষয় খুব দক্ষতার সাথে করতে হয়, তা হচ্ছে বিহার সংশ্লিষ্ট সকলের মন রক্ষা করে চলা। বিশেষ করে অধ্যক্ষ ভান্তের জন্য এটি বাধ্যতামূলক । আপনি হয়ত এতক্ষণ বলছেন তা আবার কেমন কথা । বিহারের ভান্তে সকলের মন রক্ষা করে চলতে বাধ্য হন! আজব!! তাহলে শোনেন তার কিছু দিক আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলছি...
বিহারকে কেন্দ্র করে অনেক স্টেইক হোল্ডার থাকেন । স্টেইক হোল্ডার মানে বুঝেন তো? যারা বুঝেন না তাদের জন্য বলছি বিভিন্ন ধরনের স্বার্থ-সম্পর্কীয় পক্ষ । এদের মধ্যে আছেন গ্রাম্য মোড়ল, ধনি-প্রভাবশালী, বিভিন্ন আদর্শের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, ব্যবসায়ী ইত্যাদি । এরা সবাই বিহারকে ও এর ভান্তেকে তাদের পক্ষে রাখতে চায় । তখন ভান্তে'র অবস্থা হয় অনেক সময় চাকমা প্রবাদ- রাঙা হালা ডিঙি শাক, এতারে হলে অতে রাগ... এর মত। প্রায় সকল ভান্তেরই এই অভিজ্ঞতা আছে । ভান্তেরা কোন দিকে যেতে পারে না, আবার চুপও থাকতে পারে না । ঠিক এরকম পরিস্থিতি থেকেই অনেক সময় দেখা যায় ভান্তে'র বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নাম ছড়িয়ে পড়ে, এমনকি ভান্তে আর উক্ত বিহারে থাকতে পারেন না । চুপচাপ অন্যত্র যেতে বাধ্য হন । এসব ভিতরের খবর কিন্তু আমাদের মাঝে আসে না, আমরা ওই প্রোপাগান্ডায় মজগুল বনে যায় তখন ।
গত বছর আমি আমার মায়ের অসুস্থতার সময় বাড়িতে গিয়েছিলাম মাকে দেখতে । বাড়িতে গিয়ে আমার বাবার ছোট বেলার শিক্ষা গুরুর সাথে দেখা হয় সৌভাগ্যক্রমে । বয়স ষাট বছরের বেশি হবে । কথা বলার একসময় জানলাম সম্প্রতি তিনি ছয় বছরের ভিক্ষু জীবন থেকে কাপড় ছেড়ে আবার গৃহ জীবনে ফিরে এসেছেন । জীবনের শেষ বেলায় ভিক্ষু হয়ে জীবন কাটিয়ে দিবেন এই আশায় তিনি গেরুয়া বসন ধারণ করেছিলেন । কিন্তু বিধি বাম । যেরকম ভেবেছিলেন সেরকম পরিবেশ বিহারগুলোতে দেখেননি বলে আবার গৃহ জীবনে ফিরে আসেন ।
আমরা স্বীকার করি বা না করি এসবই বাস্তবতা । ভান্তেরা দায়কদের বুঝানোর কথা দূরে উল্টা অনেক সময় তারাই ঠিকতে পারে না বিহারগুলোতে । সবাই তো আর নাগসেন ভান্তে হতে পারে না কিংবা পারে না হতে বনভান্তে (অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে ব্যবহৃত হয়েছেন বলে) । তো বিহারগুলোর এমন পরিবেশে থাকা ভান্তেদের থেকে আমরা কতটুকুই বা আশা করতে পারি সমাজের জন্য ।
একজন ভান্তে কোথাও ঠিকে থাকতে হলে তাঁর দায়কদের কাছ থেকে চতুরপ্রত্যয় (অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা) দরকার হয় বলেই ত্রিপিটকে আছে । আর আমরা মনে করি শুধুমাত্র নিয়মিত পালা শোয়েং দিয়েই ভান্তে রাজার চেয়েও সুখে আছে !! আমাদের সমাজ বিহার দান করে সংঘের কাছে । কিন্তু আমার এখনো জানা হয়নি কোন সময় কোন বিহার দান করে ওই বিহারের যাবতীয় ডকুমেন্ট সংঘের হাতে তুলে দিয়েছে বিহার দানকারী । বরং এটা সত্য যে নিজেদের ইচ্ছামত বিহারের ভিক্ষু বদল করে যখন তখন । যতক্ষণ একজন ভিক্ষু শারীরিকভাবে সক্ষম ও ভালো ভালো দেশনা দিতে পারেন ততক্ষণ তাঁর কদর থাকে দায়ক সমাজে । বুড়ো হলে কিংবা সুন্দর সুন্দর দেশনা দিতে না পারলে সেই ভান্তের দিকে আমরা ফিরেও তাকায় না । তাই অনেক আবাল্য ব্রহ্মচারী ভান্তেদের শেষ জীবনে যুবক ভিক্ষুদের পরামর্শ দিতে শুনেছি- "সময় থাকতে কাপড় ছেড়ে যাও । না হলে তোমাদেরও আমাদের মতই পরিণতি হবে দেখ"। তাঁদের এমন করুণ আর্তির উপদেশ শুনে আমার রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কবিতাটির কয়েকটি চরণ মনে পরে......"ঠাই নাই ঠাই নাই ছোট সে তরী...আমারি সোনার ধানে গিয়াছে ভরি "। এই ধরনের কথা খোদ রাজগুরু ভান্তের কাছ থেকেও শেষ জীবনে শুনেছি । তিনি উপদেশ দিয়েছেন আমার সতীর্থ বড় ভাইকে এই বলে যে- "লেখা পড়া করছ? টাকা কামাও । টাকার দরকার আছে ।" মনে প্রশ্ন জাগে তবে কি সর্বজন শ্রদ্ধেয় রাজগুরু ভান্তেও ভুল করেছেন ??? দায়কদের জন্য বৃদ্ধাশ্রম আছে । কিন্তু ভান্তেদের জন্য সেরকম কোন বৃদ্ধাশ্রম নেই । আমার যদি সামর্থ্য থাকত তাহলে আমি বয়স্ক অসহায় ভান্তেদের জন্য একটি ভিক্ষু বৃদ্ধাশ্রম করতাম । যে ভান্তেরা সমাজের মরা-মৃত্যু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিপদ-আপদ ও মঙ্গলময় কাজ করতে করতে জীবন নিঃশেষ করেছেন, তাঁদের সেই শেষ সময়ের নিভু নিভু জীবন প্রদীপ অন্তত শান্তিতে নিবে যেতে পারার সুযোগ দিতাম ।
সমাজের একেবারেই নিষ্পেষিত ও অবহেলিত হতদরিদ্র পরিবার থেকে অনেক সময় বুদ্ধ ধর্ম ও সংঘের আশ্রয়ে কিছু কিছু জুম্ম ভিক্ষু উচ্চ শিক্ষিত হয়ে অসহায় মানবতার সেবাব্রতী প্রতিষ্ঠানের জন্ম দেন মহান আদর্শ ও লক্ষ্যকে সামনে রেখে । বহু ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে তিল তিল করে গড়ে তোলা ওই সকল প্রতিষ্ঠান যখন একটি শক্ত ভিত্তির উপর দাড়িয়ে যায় তখন সেসকল প্রতষ্ঠানও কথিত গণতান্ত্রিক প্রগতিশীলদের হাতে চলে যায় । একবার আমাকে উপসংঘরাজ ভান্তে মহোদয় যা বলেছিলেন তা বাংলায় তর্জমা করলে দাড়ায়... "আমরা শুরু থেকেই অনেক কষ্টে যখন প্রতিষ্ঠান চালিয়ে আসছি তখন কোন ঝামেলা বা ভুল তেমন ধরা পড়েনি । আর এখন এসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষিতদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে বলে তারা আমাদের অনেক ভুল খুঁজে পেয়েছেন । আমরা তো অশিক্ষিত!! সম্ভবত তাই জানি না, বুঝি না এসব!!"
আমাদের ক্ষুধার্থ সমাজ শুধু নিতেই জানে, দিতে জানে না । যা দেয় তা সম্ভবত শুধু সমালোচনা । এখন আমরা আমাদের মহান ভিক্ষু সংঘকে সমালোচনার নামে গালমন্দ পারি, তাঁদের গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রামী ইতিহাসকে অস্বীকার করছি, রাজার চেয়েও সুখে আছে বলে তিরস্কার করছি সকল ভিক্ষুকে । এই অপ্রিয় বাস্তবতা আমাদের অনেক তরুণ ভান্তের মনকে বিষিয়ে তুলছে । তারা উৎসাহ হারাচ্ছে উদ্যেক্তা হতে ও দিন দিন আত্নমুখী হচ্ছে। এসব যখন ভাবি তখন হঠাৎ যেন মনে হয় ভবিষ্যতের এক গভীর অনিশ্চয়তা আমাদের হাতছানি দিচ্ছে !! এটাই কি হওয়ার কথা ছিল বা আমরা কি হতে দিবো সত্যি??

 

 

 

শ্মশানভূমি ধ্যানচর্চা কেন্দ্র, করইয়ানগর এর চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৯ অক্টোবর

Posted by Unknown | Tuesday, 28 October 2014 | Posted in

আগামী ২৯ অক্টোবর ২০১৪ইং বুধবার সাতকানিয়া থানাধীন করইয়ানগর গ্রামের শ্মশানে প্রতিষ্ঠিত শ্মশানভূমি ধ্যানচর্চা কেন্দ্র এর চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সাড়ম্বরে পালিত হতে যাচ্ছে। দিবসের নানা কর্মসূচীর উদ্বোধন করবেন শ্মশানভূমি ধ্যানচর্চা কেন্দ্র, করইয়ানগর এর প্রতিষ্ঠাতা সংঘপ্রধান ভদন্ত প্রজ্ঞেন্দ্রিয় থের। উপস্থিত থাকবেন বর্তমান অধ্যক্ষ জিনেন্দ্রিয় ভিক্ষু, দীপেন্দ্রিয় ভিক্ষু প্রমূখ।



শ্মশানভূমি ধ্যানচর্চা কেন্দ্র, করইয়ানগর এর ইতিকথাঃ



বিনয়াচার্য আর্যবংশ মহাস্থবির, বিদর্শনাচার্য সুমনাচার মহাস্থবির, বিনয়লংকার মহাস্থবির, উঃ কেতুমালা মহাস্থবির, গন্ধরাজ মহাস্থবির, জ্ঞানানন্দ মহাস্থবির, বসন্ত মহাস্থবির, উপ-সংঘরাজ ধর্মরক্ষিত মহাস্থবির সহ অসংখ্য মহাপুরুষের জন্মস্থান করইয়ানগর গ্রাম। করইয়ানগরকে এক সময় দক্ষিণ চট্টলার তীর্থভূমি বলা হত। করইয়ানগর চৈতন্য বিহারের বুড়াঁগোসাইকে এক নজর দেখার জন্য প্রতিদিন দূর-দুরান্ত থেকে লোকজন আসত। তারা পূঁজা দিত, মানত করত। কথিত আছে এ বুদ্ধমূর্তিটির কাছে কেউ মনে প্রাণে কোন কিছু প্রার্থনা করলে তার মনোবাসনা পূর্ণ হতো। তাই কেবল বৌদ্ধধর্মাবলম্বী নয় অন্যান্য ধর্মের লোকজনদেরও সমাগম ঘটত এ বিহারে। প্রতি বছর এই বুদ্ধমূর্তিকে কেন্দ্র করে বসত বৈশাখী মেলা। অন্যদিকে গ্রামের সদ্ধর্মোদয় বিহারের বুদ্ধমূর্তিটি সাতকানিয়া লোহাগাড়ার সর্ববৃহৎ সিংহশয্যা বুদ্ধমূর্তি। 

প্রয়াত আর্যবংশ মহাস্থবির ৬ষ্ঠ সংগীতিতে ত্রিপিটক বিশোধনের কাজ করেছিলেন, শুধু তাই নয় তিনিই ১ম বাঙালী বৌদ্ধ ভিক্ষু যিনি মায়ানমার থেকে “অগ্গমহাসদ্ধম্মজ্যেতিকাধ্বজ” উপাধি পেয়েছিলেন। সুমনাচার মহাস্থবির ছিলেন এদেশে বিদর্শন ভাবনা প্রচারকারীদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয়। দক্ষিণ চট্টগ্রামে সর্বপ্রথম জামিজুরীতে ধ্যানচর্চা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। 

এই গ্রামের বৌদ্ধ শ্মশানটি দীর্ঘদিন অবহেলিত অবস্থায় পড়ে ছিল। কেবলমাত্র মানুষ দাহ করার কাজেই এটি ব্যবহৃত হত। বর্ষার সময়ে কেউ ওখানে গেলে তাকে হাজারো জোঁক একসাথে আক্রমণ করত। তদুপরি যাওয়ার সময় একটি কালভার্ট অতিক্রম করে যেতে হত যা ছিল ভাঙা ফলে দূর্ভোগের অন্ত ছিল না। গত ২০১০সালের মে মাসে গ্রামের কয়েকজন যুবক শ্মশানটি সংষ্কারের উদ্যোগ নেয় এবং পরবর্তীতে পুরো গ্রামবাসীর সহায়তায় এটাকে ধ্যানচর্চা কেন্দ্রে পরিণত করে।

২০১০ সালে কাজ শুরু করার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সেখানে নির্মিত দুই কক্ষ বিশিষ্ট অধ্যক্ষের কার্যালয়, বুদ্ধ কক্ষ, ৪০ হাত দীর্ঘ চংক্রমণ ঘর এবং ধ্যানীদের জন্য আলাদা দুটি ধ্যান কক্ষ। ২০১০ সালের ২৯ অক্টোবর অনানুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় এই প্রতিষ্ঠানের। পরবর্তীতে ২০১১সালের ১লা মার্চ পূজ্য বনভান্তের অর্ধশতাধিক শিষ্য সহ দেড় শতাধিক ভিক্ষুসংঘের উপস্থিতিতে মহাসতিপট্ঠান পাঠের মাধ্যমে এটি ধ্যানচর্চা কার্যক্রমের যাত্রা শুরু করে। ঐ সময় প্রায় ৩০জন বৌদ্ধ কুলপুত্র প্রব্রজ্যা নিয়ে দশদিনব্যাপী ধ্যানচর্চায় অংশ নেয়। এসময় যৌথভাবে ধ্যানচর্চার পরিচালনায় ছিলেন ভদন্ত পঞঞাদীপ ভিক্ষু ও ভদন্ত প্রজ্ঞেন্দ্রিয় ভিক্ষু।

পরবর্তীতে প্রজ্ঞেন্দ্রিয় ভিক্ষুর পরিচালনায় বিভিন্ন কোর্সে এই পর্যন্ত ৩০০জন এর অধিক বৌদ্ধ কুলপুত্র প্রব্রজ্যা নিয়ে ধ্যানকোর্সে অংশ নিয়েছেন। মধ্যখানে সাড়ম্বরে উদযাপিত হয় প্রতিষ্ঠাতা সংঘপ্রধান প্রজ্ঞেন্দ্রিয় ভিক্ষুর স্থবির বরণোৎসব। এসময় ১০০০কপি মহাসতিপট্ঠান সূত্র (বাংলাসহ) বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। এক সময়ের অবহেলিত শ্মশানে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টি নন্দন তোরণ, পাকা কালভার্ট সহ যাতায়াতের রাস্তা। কাজ চলছে বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণের। 

শ্মশানভূমি ধ্যানচর্চা কেন্দ্রের পরিবেশনায় ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে- মহাসতিপট্ঠান সানুবাদ, অভিধর্ম পিটকে বিভঙ্গ, আলোকিত মহাজীবন মোগোক স্যাদো, সূত্র সংকলন। এছাড়াও প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে বেশ কটি বই। শ্মশানভূমি ধ্যানচর্চা কেন্দ্র, করইয়ানগর থেকে প্রকাশিত বইগুলো বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে এখানে ধ্যানকোর্সে অংশ নিতে কোন অর্থ দিতে হয় না এমনকি অষ্টপরিষ্কারও আমরা বিনামূল্যে বিতরণ করে থাকি। শ্মশানভূমি ধ্যানচর্চা কেন্দ্র, করইয়ানগর ফেইসবুক পাতা থেকে অনলাইনে বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে আমরা সবাইকে প্রতিনিয়ত সদ্ধর্মচর্চায় উদ্বুদ্ধ করে থাকি।  আমাদের পেইজে নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন আমাদের এডমিন প্রাবন্ধিক ইলা মুৎসুদ্দী।  

আমরা শাসন সদ্ধর্মের কল্যাণে আরো অনেক কাজ করে যেতে চাই ভবিষ্যতে। আপনাদের সহযোগিতা/প্রেরণা/বিভিন্ন মতামত আমাদের বিমুক্তির পথে কাজ করতে আরো বেশী উদ্বুদ্ধ করুক এই প্রত্যাশায়, সবাইকে চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মৈত্রীময় শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

বিনীত
সেবক/সেবিকাবৃন্দ
শ্মশানভূমি ধ্যানচর্চা কেন্দ্র, করইয়ানগর।

অনুলিখন- উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু- সম্পাদক, “দি বুড্ডিস্ট টাইমস” ও এডমিন শ্মশানভূমি ধ্যানচর্চা কেন্দ্র, করইয়ানগর ফেইসবুক পাতা।
(ছবিতে ভদন্ত প্রজ্ঞেন্দ্রিয় থের ধ্যানকোর্সে দেশনা দিচ্ছেন নবপ্রব্রজিত ধ্যানীদের)


মোগলটুলীতে কর্মবীর সুদেশক মৈত্রীবংশ ভিক্ষুর স্থবির বরণ ও কঠিন চীবর দানানুষ্টান আগামী ৩১ অক্টোবর

Posted by Unknown | Monday, 27 October 2014 | Posted in










ভদন্ত মৈত্রীবংশ ভান্তের সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্য তুলে ধরেছেন-
ইলা মুৎসুদ্দী

অসংখ্য বালুকণায় গড়ে বিশাল ভুবন
অপ্রেমেয় ত্যাগ লাগে গঠিত মহৎ জীবন।

ভদন্ত মৈত্রী বংশ ভিক্ষু। তিনি ১৯৮৬ সালের ১৭ জুন চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত রাউজান থানার পশ্চিম বিনাজুরী গ্রামের শ্রদ্ধাবান উপাসক বাবু অনুত্তর বড়ুয়া এবং পুণ্যশীলা শ্রীমতি পাখি রানী বড়ুয়ার ঘর আলোকিত করে এই পুণ্যবান সত্ত্ব জন্মগ্রহণ করেন। এই দম্পতির দু’পুত্র এক কন্যার মধ্যে ভদন্ত মৈত্রীবংশ ভিক্ষু তৃতীয়। পূর্বজন্মের শক্তিশালী পারমী হেতু ছিল বলেই অতি অল্প বয়সেই স্বেচ্ছা প্রণোদিত হয়ে ১০-০৯-১৯৯৯ইং সালে শুভ মধু পূর্ণিমা দিনে অতুলনীয় প্রতিভাধর, বিদর্শনাচার্য, ধুতাঙ্গসাধক, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পন্ডিত প্রবর ভদন্ত প্রজ্ঞাবংশ মহাথের মহোদয়ের নিকট প্রব্রজ্যা ধর্মে দীক্ষিত হন। বিগত ১৭ জুন ২০০৫ইং দীক্ষাগুরু ভদন্ত প্রজ্ঞাবংশ মহাথেরো’র উপাধ্যায়ে গহিরা অংকুরীঘোনা জেতবনারাম বিহারের উদক সীমায় দুর্লভ উপসম্পদা লাভ করেন। বর্তমান তিনি শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী বড়ুয়া পাড়ায় প্রতিষ্ঠিত শ্মশানভূমি শাক্যমুনি বুদ্ধ বিহারে উপ-পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতি বছর বর্ষাবাসকালীন সময়ে শ্মশানভূমি শাক্যমুনি বুদ্ধ বিহার ও প্রজ্ঞাজ্যোতি ধ্যানকেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য ধ্যান কোর্সে অংশগ্রহণকারী ধ্যানী যোগীদের প্রতিদিন ভোর ৪টায় ঘন্টা বাজিয়ে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেন এবং সূত্রপাঠ করেন। একজন ভিক্ষুর এই যে ধর্মের প্রতি গাঢ়বতা, আন্তরিকতা এসবই উনাকে আরো অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে এই প্রত্যাশা করি। পাশাপাশি তিনি সীবলী ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম এর সংগঠক প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি । আগামী ৩১শে অক্টোবর ২০১৪ইঙ তারিখে চট্টগ্রামের মোগলটুলী বড়ুয়া পাড়ায় প্রতিষ্ঠিত শ্মশানভূমি শাক্যমুনি বুদ্ধ বিহারে দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোপলক্ষে কর্মবীর সুদেশক মৈত্রী বংশ ভিক্ষুর স্থবির বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে। সকলকে উক্ত মাংগলিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য মৈত্রীপূর্ণ আহবান জানাচ্ছি।

বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদবে...?

Posted by Unknown | | Posted in ,

রামু ট্র্যাজেডি : হাজার বছরের বৌদ্ধ-ঐতিহ্য ধ্বংসের দুই বছর

লিখেছেন- শ্যামল চৌধুরী

যখন কোন রাষ্ট্রে কোনপ্রকার অপরাধ সংঘটিত হয়, তখন তার জন্য আইনের শাসন আছে, তা যথাযথ প্রয়োগের ব্যবস্থা আছে। যখন কোন দুষ্কর্ম, নাশকতা, সন্ত্রাসী বা অন্য যেকোন অপরাধ কর্মকান্ড সংঘটিত হয়, তখন তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের বিধান রয়েছে। এ কথা আমরা সবাই জানি এবং বুঝি। কিন্তু অনেক কিছু অপরাধকর্মের বিচারের জন্য রাস্তায় দাবী জানাতে হয়, প্রতিবাদ-বিক্ষোভ-মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি দিয়ে দিনের পর দিন বিচারের আশায় থাকতে হয়..! যদি দেখা যায় এটা অপরাধকর্ম, তাহলে সেটা আইনের আওতায় আসা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। কেন সেটার জন্য আলাদাভাবে বিচারের দাবী জানাতে হবে? দেশে যদি আইনের প্রকৃত শাসন থাকে তাহলে এ প্রশ্ন উঠার কথা নয়। 

আমাদের দেশের একটা ট্র্যাডিশন হয়ে দাঁড়িয়েছে, যখন কোন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের সৃষ্টি হয় তখন অন্যের ওপর দায় দিয়ে সরকার দায়িত্ব পালন করে থাকে। পাশাপাশি আক্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সাহায্য দিয়ে প্রকৃত ঘটনার আলামত তথা তথ্য-তদন্তের প্রতি তেমন কোন ভ্রুক্ষেপ করে না। আমাদের দেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা হয়ে চলেছে। বিগত ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার রাতে ও ৩০ সেপ্টেম্বর, রবিবার দুপুরে যথাক্রমে কক্সবাজারের রামু-উখিয়া ও চট্টগ্রামের পটিয়ার লাখেরা-কোলাগাঁও গ্রামে একদল সংঘবদ্ধ দুষ্কৃতকারীদের হামলায় লণ্ডভণ্ড হয়েছে ৩০০/৪০০ বছরের ১৬টি বৌদ্ধ বিহার। লুটপাট করে বুদ্ধমূর্তি সহ বহু মূল্যবান দুর্লভ সম্পদ। তারা বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অর্ধ শতাধিক ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। দুষ্কৃতকারীদের এ নারকীয় তাণ্ডবে এলাকাবাসী নির্বাক ও হতভম্ব হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ অসহায় তাকিয়ে দেখে এ দুষ্কর্ম। চোখের সামনেই নিমিষেই ধ্বংস হতে চলেছে তাদের পূজা-উপাসনার পবিত্র স্থান। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এ খবর ভেসে আসে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠে বিশ্ববিবেক। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ-প্রতিবাদে এ ঘটনার নিন্দা প্রকাশ করা হয়। 
২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর, রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত রামুতে সংঘবদ্ধ দুষ্কৃতকারীরা বৌদ্ধদের উপাসনালয়, প্যাগোডা ও বৌদ্ধবসতিতে হামলা চালালো। অথচ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতি নিকটেই দীর্ঘ সময় ধরে এ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। ভাঙচুর-লুট হয়েছে অনেক মূল্যবান সম্পদ বুদ্ধমূর্তি, পুরনো বইয়ের পাণ্ডুলিপি তথা হাজার বছরের বৌদ্ধ ঐতিহ্য। বিনষ্ট হয়েছে হাজার হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। সৃষ্টি হয়েছে এক ভীতিকর পরিবেশ যেখানে মানুষ তো দূরে থাক স্বয়ং অন্য কোন প্রাণীও জীবন-যাপনে সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। আশ্চর্যের বিষয়, ঘটনার পরদিন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর রামুর ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময়কালীন দিন-দুপুরে পটিয়ায় দু’টি বৌদ্ধ বিহারে ভাঙচুর-লুটপাট করা হলো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামুতে তার বক্তব্যে বললেন, এটা বিরোধী দলের পূর্ব পরিকল্পনামাফিক হামলা। সাথে সাথে বিরোধীদলও সরকারকে দোষারোপ করে পাল্টা বিবৃতি দিলো। এতেই আক্রান্ত বৌদ্ধরা ছাড়াও প্রগতিশীল নাগরিকদের মধ্যে হতাশার দানা বাঁধতে শুরু করলো। এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক কাঁদা ছোড়াছোড়ি হোক তা তাঁরা চান না। তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিভাবে নিশ্চিত হলেন যে, এটা তাদেরই কাজ। অপরদিকে বিরোধীদলের যেটা করার তা করেছেন। পাল্টা অভিযোগ তুলে সরকারকে সমুচিত জবাব দিয়েছেন। 
স্থানীয় আক্রান্ত বৌদ্ধদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে চলা ধ্বংসযজ্ঞ সম্পর্কে পুলিশ ওয়াকিবহাল ছিল, তা না হলে কেন পুলিশ কোন তড়িৎ পদক্ষেপ নিলো না..? এমনিতেই দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীর আচরণ ও ভূমিকা বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ..! পত্রিকান্তরে প্রকাশÑ রামুর ঘটনার দিন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সহ অনেকেই উসকানি-ইন্ধন দিয়েছে। সরকারের মন্ত্রী-নেতারা বলেছেন বৌদ্ধদের ওপর হামলার ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত। যেকোন মানুষের অবস্থাদৃষ্টে মনে হবে পূর্ব পরিকল্পনা না থাকলে অত দ্রুত এতসব লোকজন সংগঠিত করা সম্ভব ছিল না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, একটি জনগোষ্ঠীর ওপর এমনতর আঘাত করার পরিকল্পনা সরকারের দায়িত্বশীল গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কিছুই আঁচ করতে পারল না? দুষ্কৃতকারীরা কি এতই শক্তিশালী ছিল? 
যা হোক, ঘটনার পরপরই সরকার পরিকল্পনা করলেন রামুর বৌদ্ধ বিহার ও প্যাগোডাগুলো পুননির্মাণ করে দেওয়ার। সেনাবাহিনীর মাধ্যমে আধুনিক নির্মাণ শৈলী ও পুরনো ঐতিহ্যের মিশেলে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলো। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে পটিয়ার বৌদ্ধ বিহারগুলো সংস্কারের তেমন কোন ছোঁয়া আজো পরিলক্ষিত হয়নি। ইতোমধ্যে জার্মান সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় ও স্থানীয় বৌদ্ধদের প্রচেষ্টায় কিছুটা সংস্কার করা হয়েছে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারের রামুতেই পুননির্মিত সকল স্থাপনার শুভ উদ্বোধন করলেন। তবে সবকিছু নতুন আঙ্গিকে ফিরে পাওয়া গেলেও কোন কিছুর বিনিময়েও কি ফিরে পাওয়া সম্ভব সেই পুরাকীর্তি-মূল্যবান বুদ্ধমূর্তি, পুরনো বইয়ের পাণ্ডুলিপি কিংবা হাজার বছরের বৌদ্ধ-ঐতিহ্য। এ কথা নিঃসন্দেহে অনুমেয় যে, বৌদ্ধদের ঐতিহ্যের উপর হামলায় শুধুমাত্র বৌদ্ধ সম্প্র্রদায় বা জনগোষ্ঠীর অপূরণীয় ক্ষতি হয়নি, বাঙালি হারিয়েছে তার হাজার বছরের লালিত অহংকার, হাজার বছরের সভ্যতা-সংস্কৃতি। 
আমাদের দেশে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান চার সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠী সুদূর অতীত থেকে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনে বসবাস করে চলেছে। কোন অশুভ পরাশক্তির সামাজিক নিরাপত্তা ধ্বংস করার অপচেষ্টাকে প্রতিহত করাই এখন সুশীল সমাজের দাবি। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, উক্ত ঘটনার বিচার প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে। গত দুই বছরেও ঘটনার কোন কুল-কিনারা তো দূরের কথা, ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের পর্যন্ত এখনো গ্রেফতার করে বিচারের কাটগড়ায় দাঁড় করানো সম্ভব হয়নি। জনমনে প্রশ্ন, প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে কেন? আমাদের দেশের শাসনতন্ত্রের প্রকৃত প্রয়োগ হলে আর কোন ব্যক্তি, কোন গোষ্ঠী বা ক্ষতিগ্রস্তদের রাস্তায় নেমে বিচার চাইতে হতো না। আমাদের একে অপরকে দোষ চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতাকে ত্যাগ করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সংঘবদ্ধ হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। প্রশ্ন থেকেই যায়, সেই চিরাচরিত উক্তির মতো- ‘বিচারের বাণী শেষ পর্যন্ত কি নিভৃতেই কেঁদে যাবে’...? 

লেখকঃ সংস্কৃতকর্মী, প্রাবন্ধিক ও গীতিকার। সম্পাদক, অমিতাভ ( সমাজ, সাহিত্য, সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা)
E-mail: amitabhactg@yahoo.com 

ভদন্ত ধর্মবিরীয় ভিক্ষুর তীর্থভ্রমণে ভারত যাত্রা

Posted by Unknown | Sunday, 26 October 2014 | Posted in

“দি বুড্ডিস্ট টাইমস” এর উপদেষ্টা ও নির্বাহী সম্পাদক এবং  জনপ্রিয় ওয়েব পোর্টাল “ধম্মইনফো” এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ভদন্ত ধম্মবিরীয় ভিক্ষু তীর্থভ্রমণে আজ ভারত যাচ্ছেন। ইছামতী ধাতুরত্ন বিহারের অধ্যক্ষ পূজ্য ভান্তে মাসব্যাপী ভ্রমণে বুদ্ধগয়া, সারনাথ, কুশীনগর সহ বিভিন্ন বুদ্ধের স্মৃতিময় বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করবেন। এসময় তাঁর নেপালে অবস্থিত গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান লুম্বিনী যাওয়ারও কথা রয়েছে। ভদন্ত ধম্মবিরীয় ভিক্ষু প্রথমবারের মত ব্যতিক্রমধর্মী ওয়েব পোর্টাল ধম্মইনফো চালু করে বাংলাদেশী বৌদ্ধ তথা বিশ্বের বাঙালী বৌদ্ধদের নিকট সাড়া জাগান। বর্তমানে আবার নতুন করে “দি বুড্ডিস্ট টাইমনস’ চালু করেন যা সারাবিশ্বে বাংলাদেশী বৌদ্ধদের খবর পৌছিয়ে দেবে সাথে সাথে বিশ্বের বৌদ্ধদের খবরও আমাদের হাতের মুঠোয় এনে দেবে। উল্লেখ্য ইতিপূর্বেও তিনি ভারতে তীর্থভ্রমন করেছেন এবং জাপান ভ্রমণ করেছেন। সদ্ধর্ম প্রচারে নিরলস ভূমিকা পালনকারী পূজ্য ভান্তের নিরাপদ তীর্থ ভ্রমন ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন কামনা করছি।                                                         ----  “দি বুড্ডিস্ট টাইমস” পরিবার।

ডঃ শরণপাল থের “ওয়ার্ল্ড বুদ্ধিস্ট সামিট” কানাডা প্রতিনিধি নির্বাচিত

Posted by Celebrate Life Style information Blog | Saturday, 25 October 2014 | Posted in

-ভান্তে ধর্মালঙ্কার: বাঙ্গালি বৌদ্ধ ভিক্ষু ডঃ শরণপাল থের ওয়ার্ল্ড বুদ্ধিস্ট সামিট কানাডা প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। কানাডা প্রতিনিধি হয়ে আগামী ৮ ১৩ ডিসেম্বর জাপানে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ ওয়ার্ল্ড বুদ্ধিস্ট সামিট এ ৫ সদস্যের কানাডা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। এবারের বুদ্ধিস্ট সামিট এ বিশ্বের ৪০ টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ গ্রহন করবেন। ডঃ ভান্তে How to contribute to world peace and serenity for humanity through Buddhism বিষয়ের উপর আলোচনায় অংশ নেবেন।
ডঃ ভান্তে রাঙ্গুনিয়া থানার মধ্যম পোমরা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। শ্রীলংকার কলম্বোর উপকণ্ঠে অবস্থিত মাহারাগামা ভিক্ষু ট্রেনিং সেন্টার থেকে বৌদ্ধ শাস্ত্রে পান্ডিতা ডিগ্রী অর্জন সহ তথায় খ্যাতি লাভ করে বাংলাদেশের বৌদ্ধদের সম্মান বৃদ্ধি করেছিলেন। অতঃপর উচ্চ শিক্ষা ও ধর্ম প্রচার মানসে কানাডায় এসে হামিল্টন কেনেডাস্থ টরোন্টো বিশ্ববিদ্যালয় এবং ম্যাক মাস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর সহ পি এইচ ডি ডিগ্রি লাভের পাশাপাশি কানাডিয়ান ও বিভিন্ন দেশের মানুষদের বিদর্শন শিক্ষা দিয়ে চলেছেন। ধর্ম স্কুলের মাধ্যমে স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত ছাত্র/ছাত্রী সহ সকল বয়সের মানুষদের নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করে যাচ্ছেন। বর্তমানে ডঃ ভান্তে টরোন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে বৌদ্ধ ধর্মীয় শিক্ষাগুরু হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। ডঃ ভান্তে কানাডার অন্টারিও অঙ্গরাজ্য সরকার কতৃক Spirit Awardও লাভ করেন।

আলোর দিশারী শ্রদ্ধেয় বনভন্তে

Posted by Anonymous | | Posted in

আলোর দিশারী শ্রদ্ধেয় বনভন্তে

লিখেছেন:-বিশ্বনাগরিক ড. ধর্মকীর্তি মহাথের

শ্রদ্ধেয় সাধনানন্দ মহাস্থবির (বন ভান্তে)
‘‘দুল্লভো পুরিসাজঞ্‌ঞো ন সো সব্বত্থ জাযতি,
যত্থ সো জাযতি ধীরো তং কুলং সুখমেধতি।’’


দুর্লভ পুরুষোত্তম সর্বত্র জন্মগ্রহণ করেন না, যেখানেই সেই মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ করেন সেই দেশ ও সেই জাতি সুখ সমৃদ্ধ হয়।

পরম পূজ্য সাধনানন্দ মহাথের (বনভন্তে) একজন দুর্লভ পুরুষরত্ন। তাঁর জন্মগ্রহণে দেশ ও জাতি সুখী ও সমৃদ্ধ হয়েছে। তাই তাঁর জন্ম দিবসে আমি তাঁর প্রতি আমার অন্তরের অনাবিল শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। মহাকারুণিক তথাগত বুদ্ধ বলেছেন-

‘‘ন জটাহি ন গোত্তেন ন জচ্চা হোতি ব্রাহ্মণো,

যম্‌হি সচ্চঞ্চ ধম্মো চ সো সূচি সো চ ব্রাহ্মণো। 

জটা, গোত্র বা জন্ম দ্বারা কেউ ব্রাহ্মণ হয় না, যার মধ্যে সত্য ও ধর্ম বিদ্যমান তিনিই পবিত্র এবং তিনিই ব্রাহ্মণ।

এই বুদ্ধ বাণীর আলোকে তিনি সত্যকে অবলম্বন করে মুক্তির পথ অন্বেষণ করেছেন, তাই তিনি স্বাত্বিক, পবিত্র ও বিশুদ্ধ জীবনযাপনে সক্ষম হয়েছেন।

আমি শৈশব থেকে পরম শ্রদ্ধেয় বনভন্তের বিভিন্ন গুণাবলীর কথা শুনে আসছি। দীর্ঘদিন গভীর জঙ্গলে ধ্যান সমাধি করার পর তিনি যখন লোকালয়ে আসলেন তখন তাঁর শীল সমাধি ও প্রজ্ঞা গুণ দেখে এবং সদাচার ও সংযম জীবনের অনুধ্যান প্রত্যক্ষ করে অসংখ্য মানুষ তাঁর প্রতি আকর্ষিত হয়। তাঁর অলৌকিক বিভিন্ন ঘটনার কথা শুনে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান জাতি ধর্ম নির্বিশেষে দলে দলে তাঁর কাছে ছুটে যায় তাঁকে একটু দর্শনের জন্য এবং আশীর্বাদের জন্য। চারিদিকে যখন তাঁর কীর্তি ছড়িয়ে পড়ে তখন বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে নিয়ে গিয়ে পূজা করা ও ধর্মশ্রবণ করার হিড়িক পড়ে যায়। সেই আশির দশকে আমার জন্ম জনপথ দমদমা গ্রামেও অত্র গ্রামের ধর্মপ্রাণ উপাসক বাবু ভূবন মোহন বড়ুয়ার অগ্রণী ভূমিকায় এবং গ্রামবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় পরমপূজ্য বনভন্তেকে পূজা করার জন্য ও ধর্মশ্রবণের জন্য আনা হয়। সেই বিশাল উৎসবে অপার আনন্দে জনগণ মেতে উঠে। মনের সকল উদার্যে, ভক্তি অর্ঘে তাঁকে সেবা ও পূজা করার সুযোগ হয়। তখনি-ই তাঁকে আমার প্রথম দর্শন। তখন সবেমাত্র আমি নবীন শ্রমণ। তখন দেখেছি লোকালয় হতে দূরে বিলের মাঝখানে আলাদাভাবে তাঁর জন্যে কুঠির নির্মাণ করা হয়েছে। মানুষের মধ্যে কি যে আনন্দ, কনকনে শীত উপেক্ষা করে ক্লান্তিহীনভাবে মানুষ কাজ করে যাচ্ছে। ধর্মসভা আরম্ভ হলো গুরুগম্ভীরভাবে তিনি পারমার্থিক ধর্মদেশনা করছেন, লক্ষণীয় বিষয় হলো তাঁর দীর্ঘ ধর্মদেশনায় কখনো কোথায়ও আমি এবং আমার এই শব্দ পাওয়া যায়নি। এতেই বুঝা গেল আমিত্ব ত্যাগ করে সাধন জগতে অনেক দূর তিনি এগিয়ে গেছেন। তখন থেকেই তাঁর প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা ও আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। সেই শ্রদ্ধা ও আকর্ষণের টানে অনেক বার আমি তাঁকে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়েছি। আমার গুরুভন্তে শ্রদ্ধেয় উপ-সঙ্ঘরাজ প্রয়াত আনন্দ মহাস্থবির আমাকে নিয়ে একবার বনভন্তের বিহারে গিয়েছিলেন। তখন আমি শ্রামণ, দেখলাম শ্রদ্ধেয় বনভন্তে আমার গুরু ভন্তেকে বন্দনা করার পর ধর্মীয় বিষয়ে অনেক হৃদ্যতাপূর্ণভাবে আলাপ করলেন এবং আমাদের রাত্রিযাপনের জন্য তিনি নিজেই সুব্যবস্থা করে দিলেন। তখন সেখানে কোন দালানঘর ছিল না, ছোট ছোট পর্ণ কুঠির-খুব সম্ভবত অতুলসেন নামে একজন বৃদ্ধ ভিক্ষু সেখানে থাকতেন, আমরা সেখানে ছিলাম। সেই ভন্তে আমার গুরুভন্তেকে পিতৃজ্ঞানে জানতেন। পরদিন পিণ্ড গ্রহণের পর আমার গুরু ভন্তেকে শ্রদ্ধেয় বনভন্তে চীবরসহ অনেক দানীয় সামগ্রী দান করেছিলেন। তাঁর শুভ জন্মদিবসে আজ অতীতের সেই পুণ্যময় সুখ স্মৃতিগুলো বার বার মনে পড়ছে।

বড়ুয়া সমপ্রদায়ের ভিক্ষুসঙ্ঘ ও দায়কসঙ্ঘের সাথে শ্রদ্ধেয় বনভন্তের একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কারণ তিনি দীক্ষা নিয়েছিলেন চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ পরম শ্রদ্ধেয় দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান মহাস্থবিরের নিকট। তাঁর কর্মবাচা গুরুও হলেন বড়ুয়া ভিক্ষুগণ। মহামান্য ৮ম সঙ্ঘরাজ প্রয়াত শ্রদ্ধেয় শীলালংকার মহাস্থবিরের সাথেও শ্রদ্ধেয় বনভন্তের সুসম্পর্ক ছিল। শ্রদ্ধেয় সঙ্ঘরাজ ভন্তেকে বন বিহারে এক বর্ষাবাস রেখে তিনি সেবা করিয়েছেন এবং নীরবে নিবৃত্তে ধ্যান সমাধি করার সুযোগ দান করেছিলেন।

চাকমা সমাজে তখন ত্রিপিটকে অভিজ্ঞ ভিক্ষুসংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য। বড়ুয়া সমাজে তখন শাস্ত্রজ্ঞ ও ধর্ম বিনয়ে সুশিক্ষিত, পারঙ্গম এবং ত্রিপিটক শাস্ত্র অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করার মত অনেক দক্ষ ভিক্ষু পূর্ব থেকে ছিলেন। এজন্য তিনি বড়ুয়া ভিক্ষুদের সান্নিধ্যে ছিলেন।

নব্বই এর দশকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বৌদ্ধ পণ্ডিত পরম শ্রদ্ধেয় প্রজ্ঞাবংশ মহাথের পরম পূজ্য বনভন্তের সান্নিধ্যে গমন করেন। ভন্তের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি গভীর অরণ্যে ধুতাঙ্গ সাধনা করেন। পরবর্তী সময়ে ভন্তের নির্দেশে তিনি ত্রিপিটকের অননুবাদিত অনেক মূল্যবান গ্রন্থ অনুবাদ করেন। এ ছাড়া তিনি শ্রদ্ধেয় বনভন্তের নির্দেশে বনভন্তের অনেক শিষ্যকে পালি শিক্ষা দান করেন। তাই বর্তমানে শ্রদ্ধেয় বনভন্তের শিষ্যদের মধ্যেও কেউ কেউ ত্রিপিটক অনুবাদের যোগ্যতা অর্জন করেন।

এ ছাড়াও গৃহীদের মধ্যে ডা. নিহারেন্দু তালুকদার, ডা. নিখিল চন্দ্র বড়ুয়া, ডা. সুপ্রিয় বড়ুয়া, বাবু সুভাষ বড়ুয়া, বাবু স্বপন চৌধুরীসহ আরো অনেক বড়ুয়া উপাসক-উপাসিকাসহ শ্রদ্ধেয় বনভন্তের সেবা, পূজা, চিকিৎসাসহ রাজবন বিহারের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। অতি সমপ্রতি মীরসরাই দমদমা গ্রামের যুবকেরা সম্মিলিতভাবে মাসে একদিন বন বিহারে নিয়মিত পালার সোয়াইং দান করে যাচ্ছে। অন্যান্য গ্রাম হতেও এই কার্যক্রম চলছে।

কিছু বড়ুয়ার সন্তান শ্রদ্ধেয় বনভন্তের কাছে উপসম্পদা গ্রহণ করে সুন্দরভাবে ভিক্ষুজীবন সুরক্ষা করে সুনামের অধিকারী হচ্ছে এই জন্য আমি খুবই প্রীতি অনুভব করি। পরম পূজ্য বনভন্তের পারমার্থিক ধর্মদেশনা ও সম্যক দিক নির্দেশনা বুদ্ধশাসনের ক্রম উন্নতিতে যে অবিস্মরণীয় অবদান রাখছে তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে।

কয়েক শতাব্দী ধরে বঙ্গদেশে বুদ্ধধর্মের ঘোর অন্ধকার চলতে থাকে। এখানকার বৌদ্ধরা তাদের আপন রাজকীয় শক্তি হারানোর পর তাদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, সভ্যতা ধর্ম একে একে সবই হারাতে থাকে। হিন্দু শাসন আমলে হিন্দু সংস্কৃতি ও মুসলিম শাসন আমলে মুসলিম সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বৌদ্ধরা নানা কুসংস্কারে নিমজ্জিত হয়। দৈনন্দিন আচার আচরণে, ধর্মে কর্মে তারা না বৌদ্ধ না হিন্দু, না মুসলিম এরূপ অবস্থার মধ্যে ছিল। গৃহীরা সঙ্ঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, কঠিন চীবর দান, পঞ্চশীল, অষ্টশীল, বিদর্শন ভাবনা ইত্যাদি বৌদ্ধিক আচার আচরণের পরিবর্তে শনিপূজা, লক্ষীপূজা, কালীপূজা, দুর্গাপূজা, মা মগেধশ্বরী পূজা, শনির ব্রত, কার্তিকের ব্রত, বদরের ছিন্নি, সেবা খোলায় মায়ের পূজা, ডাকিনী পূজা, মানত ছিন্নত, গাজীর গান ইত্যাদি মিথ্যাদৃষ্টিসম্পন্ন কার্যক্রম করতো। ভিক্ষুদের মধ্যেও বিনয়সম্মতভাবে উপসম্পদা প্রাপ্ত ভিক্ষুও ধর্মীয় জ্ঞানে অভিজ্ঞ ভিক্ষুর একবারেই অভাব ছিল। তাই তাঁরাও বুদ্ধধর্ম বিরোধী অনেক আচার অনুষ্ঠান করতেন।

১৮৬৪ সালে আরকান হতে মহামান্য সঙ্ঘরাজ ভদন্ত সারমেধ মহাথের এদেশে এসে বৌদ্ধ দায়কসঙ্ঘ ও ভিক্ষুসঙ্ঘের এ সকল অবৌদ্ধচিত কার্যকলাপ দেখে অত্যন্ত মর্মাহত হলেন। তিনি এদেশে ধর্ম সংস্কার ও বুদ্ধধর্ম পুনর্জাগরণের উদ্যোগ গ্রহণ করলেন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এদেশে থেরবাদ পুনরুজ্জীবিত হয়। তাঁর নিকট থেরবাদ বিনয় সম্মত ভাবে সুযোগ্য উত্তরসূরিগণ পুন উপসম্পদা প্রাপ্ত বিশুদ্ধ ভিক্ষুসঙ্ঘের এদেশের বৌদ্ধ জনগণ ও ভিক্ষুসঙ্ঘের নানা কুসংস্কার বিদূরিত করে তাদেরকে আলোর রাজ্যে নিয়ে এসেছেন। তাঁদের ত্যাগদীপ্ত কর্ম প্রচেষ্টার ফসল আজকের আধুনিক ও পরিমার্জিত বৌদ্ধ-সমাজ। সমতলীয় বৌদ্ধরা অনেক পরিমার্জিত পরিশুদ্ধিত ও কুসংস্কারমুক্ত হলেও পাহাড়ি বা পার্বত্য অঞ্চলে তার সুবাতাস পরিপূর্ণভাবে লাগেনি। ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত পার্বত্য অঞ্চলের বৌদ্ধরা নানা কুসংস্কারে আচ্ছন্ন ছিল। তারা শিব পূজা, লক্ষী পূজা, ডাকিনী পূজা, গাং পূজা, বৃক্ষ দেবতা পূজা, গৃহ দেবতা পূজা, থানমানা, ধম্মকাম, ভাতদ্যা, মাথা ধৌয়া এবং মানত সিদ্ধিতে ও রোগ মুক্তির জন্য পশুবলি পূজা ইত্যাদি করতো। লুরীগণই ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানাদিতে প্রাধান্য বিস্তার করেছিল। তাঁরা আগরতারা নামক ধর্মশাস্ত্র অনুসারে মৃত ব্যক্তির দেহ সৎকার, অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া ভাতদ্যা থানমানা প্রভৃতি ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে পৌরহিত্য করতেন।

তাঁদেরকে এ সকল কুসংস্কার থেকে মুক্ত করার মত সেরূপ যোগ্যতাসম্পন্ন ভিক্ষুর যথেষ্ট অভাব ছিল। পরম পূজ্য বনভন্তে দীর্ঘদিন অনেক দুঃখ যন্ত্রণা ভোগ করে বনে জঙ্গলে অনাহারে অর্ধাহারে, বিনিদ্র রজনী যাপন করে কঠোর সাধনার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক বা পারমার্থিক জীবনের উৎকর্ষতা সাধনের পর তিনি যখন বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে লোকালয়ে আসলেন তখন তাঁর বিশুদ্ধ জীবনযাত্রা প্রত্যক্ষ করে পার্বত্যবাসীগণ তাঁর প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাপরায়ণ হলেন। ভন্তেকে তারা পরম আরাধ্য, পরম কল্যাণমিত্র ও সম্যকপথ প্রদর্শক বলে বিশ্বাস করলেন। ভন্তের প্রতিটি আদেশ উপদেশ তারা ক্রমান্বয়ে রক্ষা করার চেষ্টা করলেন। তাই ধীরে ধীরে সকল কুসংস্কারের অন্ধ খোলস থেকে পার্বত্যবাসী বৌদ্ধগণ বেরিয়ে এসে আলোর রাজ্যে ফিরে এলেন। তাঁরা ধর্মমুখী হলেন, ধর্মপ্রাণ হলেন। বুদ্ধশাসনে বনভন্তের নিকট পুত্রদান করতে লাগলেন। এভাবে গড়ে উঠল বিশাল শিষ্যসঙ্ঘ। তাঁরা অরণ্যে ধ্যান করছেন। ধুতাঙ্গ পালন করছেন, ত্রিপিটক চর্চা করছেন, বুদ্ধশাসন সুরক্ষায় এগিয়ে আসছেন। এটা শ্রদ্ধেয় বনভন্তের যুগান্তকারী অবদান। আজ পার্বত্য অঞ্চলে শান্তির সুবাতাস বইছে, শান্তিবাহিনী শান্ত হয়েছে। মদ ও নেশার প্রাবল্যতা একেবারে কমে এসেছে এগুলো শ্রদ্ধেয় বনভন্তের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদানের ফসল। ধর্মপদ গ্রন্থে ভিক্ষুবর্গে তথাগত বুদ্ধ এইকথা বলেছেন-

‘‘যো হবে দহরো ভিক্‌খু যুঞ্জতি বুদ্ধসাসনে

সো’মং লোকং পভাসেতি অব্‌ভ মুত্তো’ব চন্দিমা।’’

নিতান্ত তরুন হলেও যে ভিক্ষু বুদ্ধশাসনে আত্মনিয়োগ করেন, তিনি মেঘমুক্ত চন্দ্রের ন্যায় এই জগৎকে উদ্ভাসিত করেন।

এখানে বুদ্ধশাসনে আত্মনিয়োগ বলতে বুঝাতে চেয়েছেন বুদ্ধের পরিয়ত্তি, প্রতিপত্তি ও পটিবেদ ধর্মে যিনি জ্ঞান লাভ করেন তিনি মেঘমুক্ত চন্দ্রের ন্যায় এই জগৎ প্রজ্ঞার আলোয় উদ্ভাসিত করেন।

শ্রদ্ধেয় বনভন্তে বুদ্ধ প্রশংসিত এই ত্রিবিধ ধর্মে জ্ঞান অর্জনের জন্য সংসারের মায়া মোহের সমস্ত বন্ধন ছিন্ন করে গহীন পাহাড়ে নিবৃত্তে অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তাই এই ত্রিবিধ ধর্মে তিনি অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। তাঁর প্রাত্যহিক আচার আচরণে, চলাফেরায়, জীবনযাত্রায়, কথাবার্তায়, চিন্তনে, মননে তারই প্রমাণ মিলে। তাঁর নির্লোভতা, নিষ্কামতা, নির্মোহতা ও মৈত্রীময়তা সত্যিই যে কোন মানুষের জীবনের পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব। তাঁর নিষ্কলুষ জীবনযাত্রা বুদ্ধশাসনের প্রতি মানুষের ভক্তি, শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস অনেকগুণ বেড়ে গেছে। তাঁর প্রাত্যহিক ধর্মদেশনায় চতুরার্য সত্য, আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ, প্রতীত্যসমুৎপাদ ও নির্বাণের কথা, দুঃখ মুক্তির কথা ফুটে উঠে। বাহ্যিক কোন আবিলতা তাঁকে স্পর্শ করতে পারছে না। প্রতিনিয়ত তিনি মুক্তি, অনালয়, ত্যাগ, বিবেক ও বৈরাগ্য সুখে অভিরমিত। সার্থক তাঁর ব্রহ্মচর্য জীবন। হে সত্যদ্রষ্টা আলোর দিশারী, আপনার আলোয় বুদ্ধশাসন আরো প্রোজ্জ্বল ও আলোকময় হোক। আপনি নীরোগ ও দীর্ঘজীবন লাভ করুন আপনার শুভ জন্মদিনে এই মম প্রার্থনা।

 লেখক পরিচিতি: বিশ্বনাগরিক ড. ধর্মকীর্তি মহাথের, সভাপতি, মীরসরাই সীতাকুণ্ড বৌদ্ধ ভিক্ষু সমিতি, সহ-সভাপতি সঙ্ঘরাজ ভিক্ষু মহামণ্ডল, সভাপতি, ওয়ার্ল্ড বুড্ডিষ্ট সঙ্ঘ কাউন্সিল ইয়্‌থ বাংলাদেশ চ্যাপ্টার সদস্য; জাতি সংঘের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা সংস্থা, ওয়ার্ল্ড পার্লামেন্ট এসোসিয়েসন ও বিশ্ব আধ্যাত্মিক পরিষদ, লেখক, গবেষক ও সংগঠক।

নিকায় দ্বন্ধ সমাধানে আলোচনার ডাক দিলেন ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া

Posted by Celebrate Life Style information Blog | | Posted in

দুই নিকায়গত বিষয় নিয়ে সৃষ্ঠ দন্দের সমাধানের জন্য আলোচনার ডাক দিলেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের যুগ্ন মহাসচিব, আন্তজাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বিশিষ্ট বৌদ্ধনেতা ও শান্তি পদকপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া। গত ২৪ অক্টোবর চান্দগাঁও সর্বজনীন কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারের দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে তার বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ আলোচনার ডাক দেন। -খবর; ধম্মইনফো
আলোচনার রূপরেখা হিসাবে তিনি বলেন, দুই ভিক্ষু মহাসভার প্রথম পর্যায়ে মহাসচিব পর্যায়,দ্বিতীয় সভাপতি পর্যায়ে ও তৃতীয় সংঘনায়ক ও সংঘরাজ মহোদয় পর্যায়ে আলোচনা আহবানের জন্য জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার উদাত্ত আহবান জানান।
ভিক্ষু ও গৃহী নিয়ে বৌদ্ধ ধর্ম। তিনি আরো জানান লোভ,দ্বেষ, মোহ বেড়াজালে আমরা ঘূর্ণায়মান। সে কারণে আজ সমাজে দেখা দিয়েছে খুন, রাহাজানি,স্বামী স্ত্রী মধ্যে ঝগড়া বিবেদ, নারীরা হচ্ছে বখাটের উৎপাদে নিপীড়িত,নির্যাতিত। যদি সমাজে শিক্ষা বিস্তার লাভ না করে তাহলে বৌদ্ধ সমাজ বড়ই ক্ষতিসাধিত হবে। বৌদ্ধ ঐতিহ্য রক্ষায় প্রজ্ঞার অনুশীলন বিকল্প নাই।

শ্রীলঙ্কা সেনা প্রধানের রামু বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র পরিদর্শন

Posted by Celebrate Life Style information Blog | Thursday, 23 October 2014 | Posted in

দুলাল বড়ুয়া:: কক্সবাজারের রামু উপজেলার বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র ও দেশের সর্ববৃহৎ (১শ’ ফুট) সিংহ শয্যা গৌতম বুদ্ধমূর্তি পরিদর্শন করেছেন শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর এম ডি রাতনায়েকে।
২২ অক্টোবর (বুধবার) সকাল ৯টা ২০মিনিটে তাঁকে বহনকারী বিশেষ হেলিকপ্টারটি রামু রাবার বাগান হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। পরে উপজেলার উত্তর মিঠাছড়ি বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র ও তথায় নির্মিত গৌতম বুদ্ধমূর্তি পরিদর্শনে যান তিনি। পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেন আর এম ডি রাতনায়েকে।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ২৪ পদাতিক ডিভিশন চট্টগ্রামের জিওসি মেজর জেনারেল ছাব্বির আহম্মেদ, ফাঁসিয়াখালী ৬৫ পদাতিক ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মঈনুদ্দিন মোহাম্মদ চৌধুরী পিএসসি, ৩১ বীর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাজহারুল আল-কবির খোকন প্রমূখ।
এ সময় শ্রীলঙ্কার সেনা প্রধানের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা পারস্পরিক কুশল বিনিময় ও পেশাগত বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
শান্ত-সৌম্য ও পবিত্র গৌতম বুদ্ধমূর্তি পরিদর্শনের পর ভাবনা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ করুণাশ্রী থেরর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন শ্রীলঙ্কার সেনা প্রধান। এর আগে তিনি স্বপরিবারে উত্তর মিঠাছড়ি বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রে পৌঁছুলে তাঁদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান- ভাবনা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক সিপন বড়ুয়া। সংক্ষিপ্ত সফর শেষে ১০টা ২০মিনিটের দিকে হেলিকপ্টারে যোগে তিনি রামু ত্যাগ করেন । -অতীশ দীপঙ্কর।
 

Most Popular Posts

E Paper for Buddhist News and Articles